লকডাউনে রাজধানীতে দীর্ঘ যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশজুড়ে চলমান ‘লকডাউন’ ঢিলেঢালা ভাবে চলছে। করোনা সংক্রমণ রোধে দেয়া লকডাউনে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য মহানগর ও শহরে পুলিশের তেমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। এ সুযোগে ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলের আধিক্য ছিল নগরজুড়ে। বুধবার লকডাউনের গত দিনগুলোর তুলনায় বেশিরভাগ জায়গায় লোক সমাগম বেশি দেখা গেছে।

এতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা যায়। সরেজমিন উত্তরা, মিরপুর রোড, কাকরাইল, মোহাম্মদপুর, আসাদগেটসহ কয়েকটি এলাকার লকডাউন পরিস্থিতি পরিদর্শন করে দেখা যায়, দিন গড়িয়ে রাস্তায় মানুষ ও যানবাহনের ভিড় অনেকটা বেড়েই চলেছে। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ মোড়ে (তিন রাস্তার মোড়) অন্য দিনের তুলনায় বেশি যানবাহন দেখা গেছে। ব্যক্তিগত গাড়ি চলছে সেখানকার রাস্তা ধরে।

যাত্রীর জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে রিকশা, মোটরসাইকেলকেও। মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ থেকে আসাদগেট পর্যন্ত রাস্তার পাশের ফুটপাত ধরে অনেককে হেঁটে যেতে দেখা গেছে পল্টন মোড়ে মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ভাই এটার নাম ‘লকডাউন’? সড়কে দেখেন এত গাড়ি, নির্বিঘ্নে চলছে। পুলিশের কোনো বাধা নেই।

ধানমন্ডি ২৭ নম্বর থেকে গাবতলী পর্যন্ত নিয়মিত টহল দেওয়া একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেন, গাড়ি একটু বেড়েছে। বিভিন্ন অজুহাতে মানুষ আজ বের হওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি রাস্তায় গাড়ি আটকালে কেউ কেউ এক বছর আগের প্রেসক্রিপশনও দেখিয়েছে। এদিকে গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও প্রতিদিনই হাজারো মানুষ প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল বা ট্রাক কিংবা পিকআপে ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন।

গুলশান এলাকার বাসিন্দা শাহবাজ খান মাশফি বলেন, এসব ‘লকডাউন’র কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ হাবীব বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা না করে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে। কষ্টে পড়ে মানুষগুলো সড়কে নামছে। তাই পুলিশ কিছুই করতে পারছে না।

প্রসঙ্গত দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু হঠাৎ উর্ধ্বমুখী হওয়ার কারণে প্রথম দফায় ৫ এপ্রিল সাত দিনের লকডাউন দেওয়া হয়। ঢিলেঢালাভাবে পালিত সেই লকডাউনের মধ্যেই ১৪ এপ্রিল থেকে আবার সারা দেশে সর্বাত্মক লকডাউন দেওয়া হয়।